Sunday, April 25, 2021

ফারাক্কা বাঁধ এবং ভারতীয় গেমিং

 ফারাক্কা বাধ এবং ভারতীয় গেমিং 

পদ্মা নদী একটি প্রধান তম বৃহত্তম নদী। আমাদের দেশের প্রায় ৯০ ভাগ পলি আসতো এই প্রবাহ থেকেই। দিন যেতে যেতে এখন আর কি সেই নদীর প্রবাহ আছে? আছে কি আর সেই পলি যা কি না আমাদের ফসলের চাষ ত্বরান্বিত করার ক্ষমতা রাখে? নেই। এর পটভূমি হিসেবে কি আছে শুধু ফারাক্কা বাঁধ ছাড়া! বাধটি আমাদের সকল ভাগ্যের নিয়তা। ড্যাম টি ভারতের যত গুলো ড্যাম তাদের মধ্যে সব থেকে বড়। এমন কি সবথেকে বড় সেচ প্রকল্প বটে। ভারতের এই কৃত্রিম বাধ দিয়ে আমাদের দেশ কে মরুভূমির দিকে ধাবিত করছে। আমরা আবার এটা মনে করলে ঠিক করব না যে, ১৯৭৫ সালের পর থেকেই বুঝি এই অবস্থার সৃষ্টি, আসলে এর আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সেটি ২ বা ১ বছর নয় কয়েক যুগ আগেই,কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, বিষয়টি কখনো আলোচনায় আসেনা।

বাঁধের কারনে পদ্মা নদী এখন বিরান মরুভুমি

ভারতীয় গেমিং এর কৌশল

যতটা মনে পড়ে পাঠ্য পুস্তক ও আরটিকেল অনুসারে ১৯৪০ এর দশকে শুরু হয়েছিল এই ভয়ংকর বাধের পরিকল্পনা। সেটি করেছেন ব্রিটিশ সরকার পরে তারা তাদের তল্পিতল্পা সহ গেলো  চলে। আসলে পাকিস্তান সরকার তারা (ভারত) আবার এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করলেন ১৯৬২ সালে। নির্মাণ কাজ এগোতে  থাকে  তাদের তত্ত্বাবধানে। পাকিস্তান সরকার একটু বিরোধিতা করলেও তা হালে পানি পায়নি। আর কিভাবেই বা পারবে কারণ তারা তো নিজেদের পায়ের তলার মাটি কে শক্তিশালি করতে পারছেন না। আবার কিভাবে বা অন্য সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই টা করবেন? নির্মাণ করলেন একটি খাল যার নাম "ফিডার"।  এই খাল টি নাকি গঙ্গা থেকে পানি নিয়ে হুগলি নদীতে সরবরাহ করবে। তাতে কলকাতা বন্দর আবার জীবিত হবে। তাতে বাণিজ্য সহজ হবে এর সাথে  বাংলাদেশের একটু ক্ষতি না হয় হলো তাতে তো আর সব কিছু শেষ হয়ে যাবে না!

সেই তখন থেকে চলছে পানি প্রত্যাহার প্রায় লক্ষ এর অধিক কিউসেক পানি। যে গঙ্গার পানি ব্যবহার করার কথা চারটি দেশ (বাংলাদেশ,ভারত,নেপাল ও চায়না) অথচ সে পানি ব্যাবহার করছে ভারত একা। তারা শুধু একটি গেম খেলেছেন ১৯৭৪ সালে যখন চুক্তিটি হয় তখন তারা লিখেছেন মাত্র ৪০ দিন এই বিশাল বড় বাধটি পানি প্রত্যাহার এর জন্য ব্যাবহার করবেন। বিষয়টি হাস্যকর যে এত বিশাল আয়োজন কেউ কি ৪০ দিনের জন্য করে? শিশুর পক্ষে বোঝা সম্ভব যে, এখানে কি গেম তৈরি করা হয়েছে অথচ আমরা বুঝতে পারলাম না। এই পরীক্ষামূলক পানি প্রত্যাহার ছিল ভয়ংকর দেশ ধ্বংসের দীর্ঘ চক্রান্ত তা এখন সহজেই অনুমান করা যায়, তারা বললেন ৪০ দিন আর ব্যবহার করছেন ৪৬ এর অধিক বছর! কি সুন্দর এক্সক্লুসিভ চুক্তি বলুন তো! তারা এর পর আবার ১৯৯৬ সালে ৫০ ভাগ দেবার জন্য চুক্তি করলেন পানি নেমে এল ১০০০০ কিউসেক এ। আমরা প্রতিদিন ক্রমাগত পানি হারাচ্ছি একই সাথে হারাচ্ছি অধিকার। আমরা শুধু একটি পাতানো  খেলার খেলোয়ার  ছাড়া কিছুই নই।এখন আমরা আমাদের প্রাপ্য না পেয়ে তাদের কাছে ভিক্ষা চাচ্ছি। কিন্তু এটা আমাদের অধিকার ছিল না কি??

  


written by 

Alamgir sujan

Researcher 

University of Dhaka


1 comment:

  1. Thanks for sharing Farakka Badh history .I hope next time we will learn more about this issue.

    ReplyDelete

রুমিন ফারহানাকে সাইবার বুলিং করা হচ্ছে, এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

  বিএনপির সহ–আন্তর্জাতিক সম্পাদক রুমিন ফারহানাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুলিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ...